বিজেপির হোম মিনিস্টার নির্বাচন কমিশন চালাচ্ছে- মমতা
দি নিউজ লায়নঃ রাজ্যে এমন ভাবে ভোট হচ্ছে যেন মনে হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসনে ভোট হচ্ছে। বিজেপি যা বলছে নির্বাচন কমিশন তাই করছে। নির্বাচন কমিশন যেন বিজেপির মুখপাত্র হয়ে গেছে। আর এটা দেখে মনে হচ্ছে বিজেপির হোম মিনিস্টার নির্বাচন কমিশন চালাচ্ছে। হাওড়ার জনসভা থেকে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে এক সারিতে ডেকে আক্রমণও শানালেন মমতা। এদিন তিনি বলেন নির্বাচনে কমিশন যা করছে তা ইতিহাস হয়ে যাবে। আমি সব প্রমাণ রেখে দিয়েছি আস্তে আস্তে মুখ খুলব। এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন নির্বাচন কমিশন বিজেপির মন্ডল দেখে দেখে নির্বাচনের তারিখ ফেলেছে। যেন মনে হচ্ছে কমিশন মন্ডল কমিটি সভাপতি।
এদিন তিনি বলেন নির্বাচন কমিশনের বড় কাজ বিজেপির দালালি করা। সকলকে কমিশন এমন নির্দেশ দিচ্ছে যে তারা বিজেপি ছাড়া কিছু বুঝছেনা। এদিন মমতা অভিযোগ করেন সোমবার নন্দীগ্রামে তার গাড়িতে হামলা করা হলেও কমিশন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার আগে তৃণমূলের সমস্ত পতাকা ফেস্টুন তুলে দেওয়া হলেও কমিশন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এদিন মমতা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিজেপির বহিরাগত গুন্ডারা বিভিন্ন হোটেল গেস্ট হাউসে টাকা নিয়ে বসে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন নির্বাচনে ডিউটি করতে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপিকে ভোট দিতে বলছে।ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহ এবং আদানীর ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার চলছে। এই সরকার সব বিক্রি করে দিচ্ছে। আর এরা আবার বাংলায় ডবল ইঞ্জিনের সরকারের স্বপ্ন দেখছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইসিকে কটাক্ষ করে বলেন বিজেপি টাকা নিয়ে হায়দ্রাবাদ থেকে একটা গদ্দার এসেছে আর হুগলির মীরজাফর এক সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছে। এদের থেকে সকলকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন মমতা।
এদিনের সভা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন হাওড়ার পাশাপাশি রাজ্যে শিল্পের জোয়ার এসেছে। হাওড়া জেলাকে স্মল স্কেল ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে ২৮ হাজারের বেশি শিল্প কারখানা এবং ৩৭টি ক্লাস্টার চালু হয়ে গেছে। জেলায় একটি জরী ক্লাস্টার তৈরীর চেষ্টা হচ্ছে এছাড়াও স্বনকারদের জন্য হাব তৈরি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন বিগত ৯ বছরে ২১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে আরো ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে।
তিনি বলেন ডোমজুড়ে আইটি পার্ক তৈরি হয়েছে, ১৯ টি শিল্প তৈরি করার জন্য ৭২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, উনসানিতে টেক্সটাইল হাব হয়েছে যেখানে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে, জগদীশপুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হয়েছে যেখানে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে, উনসানিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করা হয়েছে যেখানে ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন হাওড়ায় যেভাবে শিল্প স্থাপন হচ্ছে তাতে এই জেলায় কর্মসংস্থানের অভাব হবে না। জেলার ছেলেদের বাইরে কাজ করতে যেতে হবে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন নবম শ্রেণীর পড়ুয়াদের যেরকম বিনা পয়সায় সাইকেল দেওয়া হচ্ছে সেই রকম দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের স্মাট ফোন দেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য ১০ লক্ষ টাকার ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হবে যার জামিনদার থাকবে রাজ্য সরকার।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন এবার থেকে দুয়ারে সরকারের আবেদন করলেই স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পাওয়া যাবে এবং প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। তৃণমূল আবার ক্ষমতায় আসলে বিনা পয়সায় রেশন দেওয়া চলবে এবং প্রত্যেকের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এদিনের সভা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়বলেন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের হাত খরচের জন্য ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়াও মাতৃ বন্দনা প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আওতায় আনা হবে এবং তাদের ২৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে।

Post a Comment